চুয়াডাঙ্গায় পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীকে পেটালেন নিরাপত্তা প্রহরী

0
71
সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় পরীক্ষা চলাকালে একটি বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ উঠেছে এক নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা দীননাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গতকাল সোমবার (১৩ জুন) এই ঘটনা ঘটে। আঘাতের স্থানে যন্ত্রণার কারণে ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি বলেও অভিযোগ ওই তিন শিক্ষার্থীর।

আহতরা হলেন মাখালডাঙ্গা-দিননাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মাখালডাঙ্গা গ্রামের কলিম উদ্দীনের ছেলে হাসিবুর রহমান (১৬), একই গ্রামের আফছার উদ্দিনের ছেলে আসিব হোসেন (১৫) ও বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র একই গ্রামের আনিছ আহম্মদের ছেলে মেহেরাব হোসেন (১৬)। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে এলাকাজুড়ে।

অভিযুক্ত নিরাপত্তা প্রহরীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের লোকজন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ছাত্ররা লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভূঁইয়া।

আহত হাসিবুর রহমান, আসিব হোসেন ও মেহেরাব হোসেন জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন আগে বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আবির হাসান বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসলে বিষয়টি আমরা প্রধান শিক্ষককে জানাই। পরে তিনি আবির হাসানকে বকা দেন। ওই ঘটনায় আবির হাসানের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। কয়েক দিন আগে আবির হাসানসহ আরও ৪-৫ জন আমাদেরকে মারধরের হুমকি দিলে আমারও প্রতিবাদ করি। গত দুদিন আগে আবির হাসানসহ আরও ৪-৫ জন বিদ্যালয়ে এলে আমাদের সঙ্গে তাদের আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমরা তাদেরকে চড়-থাপ্পর মারি। ওই ঘটনায় গতকাল সোমবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাদের তার কক্ষে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন ও আমাদের তিনজনকে শাসন করেন।

তারা আরও জানায়, পরে আমরা পরীক্ষা দিতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করা মাত্র বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী মাসুম আমাদেরকে বলেন তোদের পরীক্ষা দিতে হবে না। তোরা বাইরে বেরিয়ে আয়। আমরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে আসলে নিরাপত্তা প্রহরী মাসুম বাঁশের লাঠি দিয়ে আমাদের বেধড়কভাবে পেটাতে থাকে। এতে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ হয়ে যায়। আমাদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলছে। মারধরের ফলে আমরা পরীক্ষা ঠিকমতো দিতে পারিনি।

এদিকে, ঘটনাটি অস্বীকার বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী মাসুম আলী বলেন, আমি তাদেরকে মারধর করিনি। জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে গ্রামের অনেকের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ওই ঘটনার জেরে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

মাখালডাঙ্গা দিননাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবোদ আলী বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। একজন নিরাপত্তা প্রহরী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাত করতে পারেন না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY