গ্রামীণফোনের চাকরিচ্যুতদের ক্ষতিপূরণের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট

0
95
গ্রামীণফোনের চাকরিচ্যুতদের ক্ষতিপূরণের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট

বেসরকারি টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোনের চাকরিচ্যুতরা কে কত টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন সেই তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৩০ ‍জুন) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। শ্রমিকদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, মোট ১৭৬ জনের মধ্যে ১৬৮ জন পাওনা বুঝে পেয়েছেন৷ ৮ জন পাননি। সেটেলমেন্ট একাউন্ট সর্বমোট ৪০৭ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের ৩৮০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মানসম্মত সেবা (ভয়েস কল ও ইন্টারনেট) দিতে না পারায় দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

এর আগে বুধবার (২৯ জুন) দুপুরে বিষয়টি অনুমোদনের পর গ্রামীণফোনের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠায় বিটিআরসি। অপারেটরটি গ্রাহকদের কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিশ্চিত করতে পারলেই নতুন সিম বিক্রি করতে পারবে বলে জানা গেছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গ্রামীণফোনের সিম বিক্রির নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক চেষ্টা করেও গ্রামীণফোনের সেবার মান ভালো করার কোনো উদ্যোগ আমরা নিতে দেখিনি। তারা গ্রাহক বাড়াবে কিন্তু সেবার মান বাড়াবে না- এটা হতে দেয়া যায় না। যতদিন না তারা সেবার মান ভালো করবে এবং তা সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত না হবে ততদিন তাদের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

বিটিআরসির এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মে মাস পর্যন্ত গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার।

সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আয়োজিত ফাইভজির তরঙ্গ নিলামে অংশ নেয় গ্রামীণফোন। নিলামে ২ দশমিক ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে গ্রামীণফোনের হাতে ছিল ৪৭ দশমিক ৪০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। সব মিলিয়ে অপারেটরটির তরঙ্গের পরিমাণ ১০৭ দশমিক ৪০ মেগাহার্টজ। যদিও বাকি অপারেটরদের মতো গ্রামীণফোনও নতুন বরাদ্দ পাওয়া তরঙ্গ ব্যবহার করতে পারছে না। আগামী ডিসেম্বর থেকে অপারেটরগুলো তরঙ্গ ব্যবহার করতে পারবে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে এক মেগাহার্টজ তরঙ্গে গ্রামীণফোন ১৪ লাখ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে যা, অন্যান্য অপারেটরের চেয়েও বেশি। নতুন তরঙ্গ যুক্ত হলে তা হবে (এক মেগাহার্টজে) ৭ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক।

তবে বিটিআরসির অভিযোগকে অস্বীকার করেছে, গ্রামীণফোন। তাদের দাবি নিয়ন্ত্রক সংস্থার জরিপে বেঁধে মানদণ্ডে উর্ত্তীণ হয়েছে তারা। তারপরও গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে সবশেষ নিলাম থেকে ৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কেনা হয়েছে। এ অবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তে হতাশ তারা।

গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনসের খায়রুল বাশার বলেন, বিটিআরসি এবং ইন্টান্যাশালন টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের বেঞ্চমার্কে আমাদের অবস্থা ভালো রয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন করছি। সুতরাং, এমন একটি বিষয়ে যখন কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়া একটি চিঠি আসে, এটি আসলে আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত।

সার্বিক বিষয় নিয়ে দ্রুতই বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY