দুর্নীতির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রী গ্রেফতার

0
51

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ (এসএসসি স্ক্যাম) দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বর্তমান শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে টানা ২৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার তাকে গ্রেফতার দেখায় ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)’এর কর্মকর্তারা। জানা গেছে তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে তার ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখার্জিকে।

শুক্রবার রাতেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখার্জির টালিগঞ্জের একটি বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে বিপুল অর্থ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ওই রুপির মধ্যে ছিল প্যাকেটে মোড়া ২০০০ ও ৫০০ রুপির নোট। রুপি গুনতে অর্পিতার বাড়িতে ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন নিয়ে যায় ব্যাংক কর্মকর্তারা। ইডি সূত্রের খবর, ওই অর্থের মোট পরিমাণ ২১ কোটি রুপিরও বেশি। রুপি ছাড়াও অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিশটি মোবাইল।তল্লাশি অভিযানে সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রাও উদ্ধার হয়।

উল্লেখ্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অর্থের বিনিময় অনেককে চাকরি পাইয়ে দেবার অভিযোগ ওঠে সেসময়। ফলে মেরিট লিস্টে নাম না থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র রুপির জোরে অনেকেই চাকরি পেয়ে যান।
ওই অভিযোগ আসার পরেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের ভার হাতে নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তারা মূলত এই মামলার ফৌজদারির দিকটি দেখছে। কাদের হাত ধরে এই দুর্নীতি হয়েছে তা খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে সিবিআই-এর তদন্তকারী কর্মকর্তারা। অন্যদিকে এই মামলায় আর্থিক দুর্নীতির দিকটি খতিয়ে দেখছে ইডির কর্মকর্তারা। তারই অংশ হিসেবে শুক্রবার রাজ্যের অন্তত ১৪ টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি।
এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার সকালেই পার্থ’এর দক্ষিণ কলকাতার নাকতলার বাড়িতে যায় ইডির তদন্তকারী কর্মকর্তারা। একটানা জেরায় মাঝেমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন পার্থ। সে সময় তার পারিবারিক চিকিৎসককে ডেকে এনে চিকিৎসা করানো হয়। শুক্রবারের পর শনিবার সকাল থেকেও চলে একটানা জেরা। পার্থর বাড়িতে ঘিরে ফেলা হয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে। বাড়ির ভিতরে অপরিচিতদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হয়। অর্পিতার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত রুপির সাথে পার্থের কোন যোগ রয়েছে কিনা, এই দুর্নীতিতে আর কারা কারা জড়িত এই সমস্ত বিষয় জানতে চায় ইডি। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় গ্রেফতার করা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। এর আগেও গত মে মাসে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে কয়েক দফায় জেরা করে সিবিআই’এর তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে শনিবারও নতুন করে অর্পিতার টালিগঞ্জের করুণাময়ী এলাকায় ডায়মন্ড সিটি আবাসনে এসে দফায় দফায় জেরা করা হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা জানায় যে ওই ফ্লাইটটিতে মাঝেমধ্যেই আসতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এদিকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী, তৃণমূল বিধায়ক ও পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব সুকান্ত আচার্য, তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা পি.কে বন্দোপাধ্যায়, পার্থের আত্মীয় কল্যাণময় ভট্টাচার্য, এসএসসি’এর সাবেক উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সাবেক সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষা দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর অলোক কুমার সরকার, পর্ষদ সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচী, সাবেক পার্শ্বশিক্ষক চন্দন মন্ডল’এর মতো অভিযুক্তদের বাড়িতেও অভিযান চালায় ইডি।

ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতির মামলায় নাম জড়িয়েছে মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীও। অভিযোগ মেরিট লিস্টে নাম না থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র রুপি ও রাজনৈতিক প্রভাবের জোরে চাকরি পান অঙ্কিতা। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে শিক্ষকতার চাকরি যায় অর্পিতার। শুধু তাই নয়, স্কুলের শিক্ষিকা হিসাবে গত কয়েকবছর ধরে যে বেতন পেয়েছিলেন তাও দুই কিস্তিতে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে ফেরতে নির্দেশ দেয় আদালত।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY