সরকার পতন আন্দোলনে গণ অধিকারের সঙ্গে বিএনপির ঐক্যমত

0
62

সরকারকে সরাতে বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলন করবে গণ অধিকার পরিষদ। এ বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছে দল ‍দুটি।

বুধবার দুপুরে গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে সংলাপের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে না। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হবে। জয়ী হলে সকলকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গণ অধিকার পরিষদের সাথে আলোচনা সভায় সন্তুষ্ট হয়েছি খুশি হয়েছি, তারা আমাদের সাথে প্রায় সব বিষয়েই একমত পোষণ করেন। বিশেষ করে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। আমরা এই বিষয় একমত হয়েছি যে, এই সরকারকে আর ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া যায় না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম নুর বলেন, বিএনপির সাথে আমাদের খুব একটা
পার্থক্য নাই।

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করেছি, প্রায় ১০টা বিষয় উঠে এসেছে। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ক্ষমতায় থাকা বর্তমান ফ্যাসিবাদ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামের ক্ষেত্রে গণ অধিকার পরিষদ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে একমত। সেক্ষেত্রে আমাদের দ্বিমত নেই।

বিএনপির সাথে গণ অধিকার পরিষদের যে ১০টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাহলো-

১. ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের ভোটবিহীন জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকা বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার হঠাতে যুগপৎ বা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম।

২. অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠন, ইভিএম বাতিল করে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণ।

৩. রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনায়নসহ সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার।

৪. বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা করে প্রধান বিচারপতিসহ বিচারক নিয়োগে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন।

৫. বাক, ব্যক্তি ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ করার অধিকারসহ নাগরিকদের সংবিধান স্বীকৃত সকল অধিকার প্রতিষ্ঠা।

৬. খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দী ও ধর্মীয় নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। ভিন্নমতের উপর রাষ্ট্রীয় দমন, পীড়ন, গুম, খুন, নির্যাতন-লিপীড়ল, হামলা মামলা বন্ধে পদক্ষেপ।

৭. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সকল গণবিরোধী ও নিপীড়নমূলক আইন বাতিল করা।

৮. বর্তমান সরকারের গত ১৩ বছরের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের শ্বেতপত্র প্রকাশ করে দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।

৯. মেগা প্রকল্প ও কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইন করে বাপেক্সেকে শক্তিশালী স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।

১০. রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশ, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বসহ জাতীয় স্বার্থে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা।

বিএনপি তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন সংলাপে অংশ নেন।অন্যদিকে রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বে অংশগ্রহণ নেন গণ অধিকার পরিষদ নেতৃবৃন্দ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY