ঋণ কখন দেয়, যখন আমরা শোধ করতে পারি: পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

0
79
ঋণ কখন দেয়, যখন আমরা শোধ করতে পারি: পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামাকাপড় আছে। আমি মনে করি না, আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি। রাজধানীতে এক সংলাপে কথাগুলো বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক নগর সংলাপের আয়োজন করে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশ। সংগঠনের সভাপতি অমিতোষ পালের সভাপতিত্বে সংলাপ সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সোহেল মামুন।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশের সক্ষমতা বেড়েছে দাবি করে তাজুল ইসলাম আরও বলেন, গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেক মানুষ খেতে পারছে। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামাকাপড় আছে। আমি মনে করি না, আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি। একটা প্যানিক (আতঙ্ক) সৃষ্টি করে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে মন্ত্রী এও বলেন, কেউ বলতে পারবে না পৃথিবীর অবস্থা কোন দিকে যাবে। দুঃসময় সারা পৃথিবীতে। এটা বর্তমান সরকার তৈরি করেনি।

তিনি বলেন, আমদানির জন্য কারেন্ট অ্যাকাউন্টে (চলতি হিসাবে) ঘাটতি আছে। কিন্তু দেশে রিজার্ভ আছে। রিজার্ভ দিয়ে এটা কভার করা যাবে। আমরা আমদানি করছি বেশি। বাংলাদেশ প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের আমদানি করে। এতে একদিকে আমাদের ওপর চাপ আসছে, আরেক দিকে দেখে খুশিও লাগছে যে বাংলাদেশ মাসে ৮ বিলিয়ন ডলার আমদানি করে। একসময় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৯ বিলিয়ন ডলার। আমরা তো এখন এটা হ্যান্ডেল করতে (সামাল দিতে) পারছি।

মন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, আপনি বলছেন- এই দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে গেছে। এখন টাকা তো গেছে, তাদের ধরেন। বলবেন, আপনি ধরেন না কেন? ধরার জন্য আমাদের যে চেষ্টা নেই, এটা বলব কী করে। এটা তো আজকে না, প্রথম থেকে গেছে। বহুজনের টাকাও আনা হয়েছে বিদেশ থেকে।

এ সময় তাজুল ইসলাম আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য কোনো শর্ত নেই দাবি করে বলেন, আইএমএফ থেকে আমরা মাঝে মাঝে ঋণ নিই, আবার দিয়েও দিই। করোনার সময় নেওয়া হয়েছে দুই মিলিয়ন ডলারের মতো, সেটা নিয়ে দিয়ে দেওয়াও হয়েছে। এখন তারা দেখে, আমরা তাদের টাকা নিয়ে ফেরত দিতে পারব কি না। এ জন্য তারা কোনো কোনো জায়গায় (বিষয়ে) পরামর্শ দেয়।

এখনো বিভিন্ন ঋণদাতা সংস্থা ঋণ দেওয়ার জন্য আসে দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবস্থা যদি এত খারাপ হয়, তাদের কি মাথা খারাপ হয়েছে ঋণ দেওয়ার জন্য।

এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন, বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে নেওয়ার কাজ করার জন্য নতুন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক আমাদের সেধে টাকা দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক এসে ঘুরছে বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা দেওয়ার জন্য। তারা ঋণ কখন দেয়, যখন আমরা শোধ করতে পারি।

এ সময় তিনি জনগণের জন্যই জনগণকে কষ্ট করতে হবে, বলে উল্লেখ করেন। তাজুল বলেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির কথা বলা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি আমরা ডেকে আনিনি, এটা জোর করে ঢুকেছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY