ওয়ারেন্ট ডাউনলোড করে পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি

0
83
সংগৃহীত

ইন্টারনেট থেকে ওয়ারেন্ট ডাউনলোড করে তাতে কলম দিয়ে আসামির নাম লিখে টার্গেটকৃতকে ধরতে গিয়ে নিজেই হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক ভুয়া পুলিশ। গায়ে পুলিশের জ্যাকেট, হাতে ওয়াকিটকি, কোমরে পিস্তল, মোটরসাইকেলে পুলিশের স্টিকার সঙ্গে নিয়ে টার্গেটকৃত ব্যবসায়ীর কাছে দাবি করতেন মোটা অংকের চাঁদা।

এভাবেই নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিলেন নওগাঁর বদলগাছি থানার শাকিল হাসান (৩০)। বসবাস করতেন রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায়। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ওভারব্রিজ সংলগ্ন কাঁচা লংকা রেস্তোরাঁর মালিকের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন শাকিল। টাকা না দিলে ব্যবসার ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেন।

উপায় না দেখে পুলিশে অভিযোগ দেন রেস্তোরাঁর মালিক। অভিযোগ পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাকিলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে ৩টি পুরাতন ওয়াকিটকি, ১টি পিস্তলসদৃশ গ্যাস লাইট, পুলিশের লোগো ও নিজের ছবি সম্বলিত ১টি আইডি কার্ড, ১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ফটোকপি, ১টি এটিএম কার্ড, পুলিশ লেখা স্টিকারযুক্ত ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

এছাড়া তার কাছ থেকে ১টি নেভি ব্লু রঙের স্লিভলেস জ্যাকেট ও লাল রঙয়ের হাফ হাতা গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। জ্যাকেটটির সামনের দিকের ডান পাশে বাংলাদেশ জেল ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মনোগ্রাম লাগানো ছিল।

শনিবার (২০ আগস্ট) সকালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) রুবাইয়াত জামান।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাকিল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে স্বীকার করেন যে, পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে তিনি ওই রেস্তোরাঁর মালিক আব্দুর রহমানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময়ে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ টাকা তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন তা এখনো জানা যায়নি। বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা শাকিলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY