‘বাবুল স্যার ফেনী কারাগারে, সেটাই জানতাম নাঃ ওসি নিজাম

0
103

ফেনী জেলা কারাগারে আটক থাকা সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার কারাগারে তার কক্ষে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তার অভিযোগ, এমন কাজ করেছেন ফেনী সদর মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন। তবে ওসি মো. নিজাম উদ্দিনের দাবি, বাবুল আক্তার যে ফেনী কারাগারে আছেন, সেটিই তিনি জানতেন না। এই অভিযোগ খণ্ডনের জন্য তিনি দাবি জানিয়েছেন, পুরো কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি বলেন, বাবুল স্যার ফেনী কারাগারে সেটিই আমি জানতাম না। রোববার গণমাধ্যমে খবর আসার পর বিষয়টি জানতে পারি। আইনগতভাবে পুলিশের কোনো কর্মকর্তাই আদালতের অনুমতি ছাড়া কারাগারে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন না।

তিনি বলেন, ডাকাতি মামলার একজন আসামির খোঁজ নিতে জেলখানায় গিয়েছি। জেলসুপার মহোদয়ের রুমে মাত্র ৫-৬ মিনিট ছিলাম। জেলখানা পুরোটাই সিসিটিভির আওতায় থাকে। ভেতরে-বাইরে সিসিটিভি রয়েছে। কারাগারের ওয়ার্ডের বাইরেও সিসিটিভি রয়েছে। এসব ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ফেনী সদর থানার ওসি বলেন, আমাদের আশপাশে সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতের আনাগোনা বেড়েছে। ডাকাতি প্রতিরোধ এবং নির্মূলের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে একটি ডাকাতি মামলার আসামির তথ্য নেওয়ার জন্য কারাগারে গিয়েছিলাম। ফেনী এলাকার একজন ডাকাতের বিষয়ে তথ্য জানতে। ওই ডাকাত আগে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গিয়েছিল। সে জামিনে বেরিয়ে গেলো, নাকি কারাগারে আছে, সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই কারাগারে গিয়েছিলাম।

অন্যদিকে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার তাবি করেছেন, ওসি নিজাম উদ্দিন তার কক্ষে তল্লাশি চালিয়েছেন। এমন অভিযোগে সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি নালিশি আবেদন করেছেন তার আইনজীবী গোলাম মওলা মুরাদ।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুন্নেছার আদালতে করা ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় জেল কোডের বিধান অমান্য করে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বাবুল আক্তারের কক্ষে তল্লাশি চালিয়েছেন। বাবুল আক্তারকে রিমান্ডে এনে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর বিবাদীরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। ওই ৬ জনের প্ররোচনায় এবং নির্দেশে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জেল কোডের বিধান তোয়াক্কা না করে ফেনী কারাগারে প্রবেশ করেন। বাবুল আক্তারের কক্ষে দীর্ঘ সময় তল্লাশির নামে তার জীবনের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করেন। কারাগারে তার প্রবেশের চিত্র সিসিটিভির ফুটেজ যাচাই করলেই নিশ্চিত হওযা যাবে।

জেলা কোড অনুসারে থানার কোনো কর্মকর্তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং আদালতের লিখিত অনুমতি ছাড়া কারাগারে প্রবেশ করতে পারেন না বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তার আইনজীবী।

এ বিষয়ে বাবুল আক্তারের আইনজীবী গোলাম মওলা মুরাদ বলেন, পিবিআই প্রধানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলার আবেদন করার পর বাবুল আক্তারকে মানসিক চাপে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিবাদীরা। আদালত এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো লিখিত অনুমতি ছাড়াই কারাগারের অভ্যন্তরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রবেশ করে একজন হাজতির কক্ষে তল্লাশি চালানো বিস্ময়কর। পুরো বিষয়টিতে ফেনী জেলা কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনা সম্পর্কে জানা সহজ।

তিনি বলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া একজন হাজতির কক্ষে প্রবেশ করা জেল কোড অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা আদালতকে বিষয়টি জানিয়েছি। এখনো আদেশ দেননি। আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

এর আগে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ৮ সেপ্টেম্বর একই আদালতে আরেকটি মামলার আবেদন করেন বাবুল আক্তার। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

ওই মামলার আবেদনে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসপি মো. নাজমুল হাসান, মেট্রো এসপি নাঈমা সুলতানা, খুলশী থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা, সিএমপির ডিবি বন্দর জোনের সহকারী কমিশনার একেএম মহিউদ্দিন সেলিম ও পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার ইন্সপেক্টর কাজী এনায়েত কবিরকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫(১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ করা হয়।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। ওই সময় এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। ঘটনার সময় মিতুর স্বামী, তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ছিলেন ঢাকায়। ঘটনার পর চট্টগ্রামে ফিরে তিনি পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY