পিকে হালদারকে ফেরত পাঠানোর খবর নাকচ ইডির আইনজীবীর

0
37
পিকে হালদারকে ফেরত পাঠানোর খবর নাকচ ইডির আইনজীবীর

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ভারতে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর খবর নাকচ করে দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) এক আইনজীবী।

‘ভারত পিকে হালদারকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে’- বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এমন একটি খবর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইডির আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী জানান, এই ধরনের কোনো খবর তার জানা নেই। যেহেতু মামলাটি এখনও বিচারাধীন, তাই এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) পিকে হালদার ও তার আরও পাঁচ সহযোগীকে নবমবারের মতো কলকাতার নগর দায়রা আদালতের (ব্যাঙ্কশাল) সিবিআই স্পেশাল কোর্টে তোলা হয়।

এদিন শুনানির পর তাদেরকে আরও ৫৬ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন আদালত। বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজন হলে ইডি তদন্তকারীরা চাইলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।

স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে তাদের আদালতে তোলা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সিবিআই স্পেশাল কোর্ট-৪ বিচারক বিদ্যুৎ কুমার রায় ৫৬ দিন পর আগামী ১৭ নভেম্বর আসামিদের ফের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

ইডির আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, অভিযুক্ত প্রত্যেককেই আগামী ১৭ নভেম্বর ফের আদালতে তোলা হবে এবং ততদিন পর্যন্ত তারা কারাগারেই থাকবেন। প্রয়োজনে ইডির কর্মকর্তারা কারাগারে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।

এদিন ইডির পক্ষ থেকে দেয়া সাড়ে ৪ হাজার পাতার রিলায়েড আপওন ডকুমেন্টস বা আরইউডি-এর কপিও অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেয়া হয় এবং অভিযুক্তরা তাতে স্বাক্ষরও করেন। সেক্ষেত্রে আগামী ১৭ নভেম্বর এই কপি যাচাই করে অভিযুক্তরা আদালতে জানাবেন।

এদিন দুপুরের পরই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে পিকে হালদারকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে মর্মে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। ইডির বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই পিকে হালদারকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে ভারত।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইডির আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী বিষয়টি নাকচ করে দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। সে কারণেই ইতোমধ্যে চার্জশিট জমা হওয়ার পরও পরিপূরক চার্জশিট দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ হলে শুরু হবে বিচারিক প্রক্রিয়া। ‌এরপরই বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

গত ১৪ মে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা থেকে গ্রেফতার করা হয় পিকে হালদারকে। ‌জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অশোকনগরের কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় পিকে হালদারের এক ভাই, দুই ভাগ্নে, কথিত এক বান্ধবী ও আরও একজন সহযোগীকে।

দুই দফায় ১৩ দিন রিমান্ড শেষে তাদের প্রত্যেককেই কলকাতার আলাদা দুই কারাগারে রাখা হয়। ১১ জুলাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কলকাতার আদালতে চার্জশিট দেয় ইডি। ১০০ পাতার ওই চার্জশিটে পিকে হালদারসহ ছয় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রয়েছে।

এক্ষেত্রে কেবলমাত্র ‘প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট-২০০২’ (পিএমএলএ) মামলায় ওই ছয় অভিযুক্তের নামে চার্জ গঠন করা হয়। চার্জশিটে নাম রয়েছে তাদের দুটি সংস্থারও।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY