রূপনার আয়ে চলে সংসার, অভাব-অনটন জরাজীর্ণ

0
21
রূপনার আয়ে চলে সংসার, অভাব-অনটন জরাজীর্ণ

বাবা যখন মারা যান রূপনা তখন মায়ের পেটে। ফলে জন্মের পর থেকে বাবাহীন পরিবারে বেড়ে ওঠেন রূপনা। সংসারে অভাব-অনটন। ঠিকমতো খাবার জোটে না।

নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। দুই কক্ষের জরাজীর্ণ ঘর। একদিন যে ঘরে নিত্য রচনা হতো বেদনা আর সংগ্রামের গল্প, সেই ঘরে আজ খুশির বান। এই বাড়ির ছোট মেয়ে রূপনা এখন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলরক্ষক। গত সোমবার শেষ হওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ পাওয়া বিজয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন তিনি। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে এই বিজয়ী বীরের বাড়িতে উপহার নিয়ে হাজিন হন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় পরিবারটির দুর্দশার উল্লিখিত তথ্য জানান রূপনার মা কালাসোনা চাকমা।

কালাসোনা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর ছোট মেয়ে রূপনার জন্ম হয়। সংসারে তখন ঘোর অন্ধকার। সন্তানদের কী খাওয়াবেন, কিভাবে বড় করবেন-সেই চিন্তায় দিশাহারা। খেয়ে না খেয়ে কেটে গেছে দিনের পর দিন। এ জন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়েছে। ছেলেরা ছোট থাকতেই পাহাড়ে জুম চাষ করেছেন। পরিশ্রম করেছেন মেয়েরাও। এই দুরবস্থার মধ্যেও রূপনা পড়াশোনা করেছেন। খেলাধুলাও করেছেন। এক পর্যায়ে জাতীয় দলে সুযোগ হলো তাঁর। এর পর থেকে তাঁদের ছোট্ট মেয়েটির উপার্জনেই সংসার চলেছে। কিভাবে যে সম্ভব হয়েছে তা ভেবে এখন তিনি নিজেই অবাক।

এদিকে রূপনার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তাঁর প্রতিবেশীরাও। রূপনার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁরাও দিন গুনছেন, কবে ঘরে ফিরবেন রূপনা। এরই মধ্যে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক রূপনার পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। রূপনার পরিবারের জন্য ঘর এবং সেই ঘরে যাওয়ার জন্য সামনের রাস্তাটিও নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এতে আনন্দিত রূপনার ছোটবেলার খেলার সাথীসহ প্রতিবেশীরাও।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY