সাড়ে তিন কোটি শিশুর রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সীসা

0
37
সাড়ে তিন কোটি শিশুর রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সীসা

দেশের ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশুর রক্তে উচ্চমাত্রার ক্ষতিকারক সীসা শনাক্ত হয়েছে। দুই বছর থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের শতভাগের শরীরে সীসার উপস্থিতি মিলেছে। বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীরে এ সীসার নেতিবাচক প্রভাব বেশি। এর প্রভাবে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা কমে যায়। মনযোগের ঘাটতি তৈরি করে এবং লেখাপড়ায় তারা দুর্বল হয়ে পড়ে।

২৫ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ‘আন্তর্জাতিক সীসা পয়োজনিং সপ্তাহ-২০২২’ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা ইউনিসেফের উদ্যোগে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ও আন্তর্জাতিক উদারময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি) পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এবার দিবসটির নির্ধারিত প্রতিপাদ্য, সীসা দূষণ প্রতিরোধে আমরা আছি একসাথে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুজ্জামান, বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েটসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

আইসিডিডিআর,বি’র করা গবেষণার তথ্য বলছে, ঢাকার ৫০০ শিশুর রক্ত পরীক্ষায় সবার শরীরেই সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাজারের বিভিন্ন পণ্য পরীক্ষা করে ৩৬৭টি পণ্যের মধ্যে ৯৬টিতে সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চারটি শহরে স্থানীয়ভাবে তৈরি খেলনা, রং, অ্যালুমিনিয়াম ও সিলভারের হাঁড়িপাতিল, সবজি, চাল ও মসলার নমুনায় সীসার উপস্থিতি পাওয়া যায়। চারটি শহরের মধ্যে আছে ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী ও খুলনা। এ ছাড়া মাটি, ছাই, পোড়া মাটি ও হলুদের গুঁড়ায় সীসার উপস্থিতি দেখা গেছে।

এ ছাড়া, সীসা দ্বারা দূষিত হলুদের গুঁড়া গর্ভবতী নারীর শরীরে উচ্চ মাত্রার সীসার উপস্থিতির কারণ। পল্লী এলাকায় পরীক্ষা করা ৩০ শতাংশ গর্ভবতী নারীর শরীরে সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা জানান, সীসা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে। শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি এবং বুদ্ধিমত্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। সীসা শিশুর মনোযোগের ঘাটতি তৈরি করে, শিশুকে লেখাপড়ায় দুর্বল করে তোলে। আচরণগত সমস্যা তৈরি করে এমনকি শ্রবণ ও বাক সমস্যাও তৈরি করতে পারে। এসব শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ফলস্বরূপ শিশু ভবিষ্যতে আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুজ্জামান বলেন, ‘মানবদেহে বিশেষ করে শিশুদের জন্য সীসার প্রভাব মারাত্মক। এর ক্ষতিকর দিক কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, তা নিয়ে দেশে আরও গবেষণা হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, সারা বিশ্বেই শিশুরা সীসা দূষণের শিকার। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমরা এটা জেনে আনন্দিত যে, বাংলাদেশে সীসা দূষণ কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে কাজ হচ্ছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY